নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী আধিকারিক (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের একটি প্রারম্ভিক অভিভাষণ সম্প্রতি অন্তর্জালে দাবানলের ন্যায় পরিব্যাপ্ত হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত মাত্র দুই মিনিটের ওই স্বাগত বক্তৃতায় তিনি প্রায় ষাটবার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছেন।
গত মঙ্গলবার জৈন্তাপুরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস ইমদাদুল উলুম লামনীগ্রাম মাদ্রাসায় বিদগ্ধজনের সঙ্গে মন্ত্রীর এক মতবিনিময় সভায় এই অপ্রত্যাশিত স্তাবকতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। গত বৃহস্পতিবার রজনী থেকে এই দৃশ্যপটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করলে, শুক্রবারও নেটিজেনদের টাইমলাইনে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিভ্রমণ করতে দেখা যায়। ইউএনও সুনন্দা রায়ের বাক্যালাপের আদ্যোপান্ত জুড়ে প্রতিটি বাক্যের প্রারম্ভ ও উপসংহারে ‘স্যার’ শব্দের এহেন পৌনঃপুনিক প্রয়োগ আন্তর্জাল-ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানামুখী আলোড়ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার উদ্রেক করেছে। সমালোচকদের একাংশ এটিকে নির্লজ্জ ও অত্যধিক চাটুকারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ভর্ৎসনা করছেন। অপর এক অংশ আমলাতন্ত্রের বর্তমান বাচনভঙ্গি, উপস্থাপন-শৈলী এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রজাতন্ত্রের পদস্থ আধিকারিকদের এহেন স্তাবকতার দৃষ্টান্ত এটিই প্রথম নয়। ইতোপূর্বে গত ২৪শে মার্চ রংপুরে আয়োজিত এক আলোচনা সভার অনুরূপ একটি দৃশ্যপট অন্তর্জালে ভাইরাল হয়েছিল। সেখানেও রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এনামুল আহসান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর প্রতি অনুরূপ আনুগত্য প্রদর্শনপূর্বক দুই মিনিটের অভিভাষণে ষাটবার ‘স্যার’ সম্বোধন করেছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গকে এরূপ অত্যধিক তোষামোদমূলক সম্বোধনের দৃষ্টান্ত ইদানীংকালে এক দৃষ্টিকটু প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
জৈন্তাপুরে আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সমাসীন ছিলেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক এবং সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুহীদুল ইসলাম প্রমুখ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
Leave a Reply